
প্রায় ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই রুটটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন নভেম্বরে পাকিস্তান সফরে যাবেন বলে জানা গেছে।
করাচি একসময় বাংলাদেশের ব্যবসা, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল। তবে ২০১২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলমান আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রুটটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য, শ্রমবাজার, ট্রানজিট সুবিধা এবং সরাসরি যোগাযোগে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রীচাহিদা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজার সংযোগ এবং করাচির শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকের সঙ্গে পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির মহাপরিচালক নাদির শাফি দারের বৈঠকেও ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সপ্তাহে তিন দিন ঢাকা–করাচি–ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। যাত্রীর সাড়া পেলে ভবিষ্যতে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বোশরা ইসলাম জানিয়েছেন, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও এগিয়ে চলছে এবং সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইটের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিবেচনায় রুটটি চালু হওয়া আঞ্চলিক সংযোগের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে পোশাক, ওষুধ, জাহাজ নির্মাণসহ রপ্তানিমুখী খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ও ব্যবসায়ী মহল এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তাদের মতে, সরাসরি করাচি ফ্লাইট চালু হলে আমদানি-রপ্তানির খরচ কমবে, ট্রেড মিশনের কর্মকাণ্ড বাড়বে এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতির জন্ম দেবে।
উল্লেখ্য, করাচি ছিল বিমান বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক আন্তর্জাতিক রুট। নতুন উদ্যোগ সফল হলে সেই গুরুত্ব আবারও ফিরে আসার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।