প্রেমিকার মাধ্যমে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ, তারপর ২৬ টুকরো: র্যাব
Publish :
15 Nov 2025, Sat
at
15:16,
View: 643

রংপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যার ঘটনায় ভয়াবহ এক পরিকল্পনার তথ্য দিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, আশরাফুলকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায় করার উদ্দেশ্যেই পুরো নাটক সাজিয়েছিল জরেজ ও তার কথিত প্রেমিকা শামীমা আক্তার।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফিন শনিবার সকালে কাওরানবাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জরেজ ও শামীমার মধ্যে প্রায় এক বছরের সম্পর্ক ছিল। জরেজই প্রথম শামীমাকে জানান—তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব, আর সেই টাকা দুই জন ভাগ করে নেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা গ্রহণ করবে ৩ লাখ, আর জরেজ নেবে ৭ লাখ।
এই পরিকল্পনা মাথায় রেখেই শামীমা প্রায় এক মাস আগে থেকে আশরাফুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন। কথাবার্তা ও ভিডিও কলে ধীরে ধীরে আশরাফুলকে আকৃষ্ট করা হয়। এরপর ১১ নভেম্বর আশরাফুল ও জরেজ ঢাকায় এসে শামীমার সঙ্গে দেখা করেন। তারা শনির আখড়ায় ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন। র্যাব বলছে, সেখানে চেতনানাশক খাইয়ে আশরাফুলকে অচেতন করে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ব্ল্যাকমেইলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তার হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে এবং মুখ স্কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। এরপর অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে জরেজ উত্তেজিত হয়ে হাতুড়ি দিয়ে আশরাফুলের মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। শ্বাস নিতে না পারায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই বাসায় মরদেহের পাশেই রাত কাটায় জরেজ ও শামীমা।
পরদিন, ১৩ নভেম্বর, মরদেহ গুম করার জন্য জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি নীল রঙের ড্রাম কেনে। এরপর চাপাতি দিয়ে মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে ড্রাম দুটি হাইকোর্ট মাজার গেইটের কাছে পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে তারা গাছের নিচে ড্রাম রেখে দ্রুত অটোযোগে সায়েদাবাদে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর র্যাব-৩ কুমিল্লা থেকে শামীমাকে গ্রেফতার করে, আর জরেজকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।