HEADLINES: |
Thursday, 12 February, 2026, at 3:51 PM | BANGLA |
![]() |
|
|
Capital‘বিগো লাইভে’ পরিচয় থেকে ত্রিভুজ প্রেম, বন্ধুর হাতে খুন আশরাফুল
Publish :
15 Nov 2025, Sat
at
10:44,
View: 577
![]() কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যার ঘটনায় বন্ধুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আশরাফুলের বন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তারকে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জরেজুলকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনে ডিবি পুলিশ, আর শামীমাকে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। র্যাব–৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যা করে মরদেহ টুকরো করে জাতীয় ঈদগাহ মাঠের পাশে দুটি ড্রামে ফেলার ঘটনায় শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী আশরাফুলের সঙ্গে শামীমার সম্পর্ক ছিল, একই সময়ে শামীমা ছিলেন জরেজুলের প্রেমিকা। তদন্তে এই জটিল সম্পর্কের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হচ্ছে। পুলিশ ও র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরের একই গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল এবং মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজুল ছিলেন বাল্যবন্ধু। তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘বিগো লাইভে’ কুমিল্লার শামীমা আক্তারের সঙ্গে জরেজুলের পরিচয় হয়। দুই সন্তানের মা শামীমার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে এলে শামীমার সঙ্গে সময় কাটাতেন জরেজুল। এই সম্পর্কের কথা বন্ধু আশরাফুলকে জানানোর পর আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং তাদের মধ্যেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় আশরাফুল ও জরেজুলের বন্ধুত্ব ছিল গভীর, কিন্তু একই নারীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ত্রিভুজ সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ডিবি জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে দক্ষিণ দনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন জরেজুল। সেখানে শামীমাকে নিয়ে ওঠেন। গত মঙ্গলবার তিনি আশরাফুলকে ওই বাসায় ডাকেন। তখনই তিনি নিশ্চিত হন যে শামীমার সঙ্গে আশরাফুলের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তার আচরণে উত্তেজনা দেখা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে আশরাফুলকে বালিশ চাপা দিয়ে এবং পরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন জরেজুল। হত্যার পর মরদেহ দুই দিন বাসার ভেতর রাখা হয়। বুধবার রাতে জরেজুল ও শামীমা মিলে মরদেহ ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরেন। পরদিন সন্ধ্যায় একটি ভ্যানে করে ড্রাম দুটি জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে ফেলে রেখে তারা কুমিল্লায় পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ঈদগাহের সামনে নীল রঙের ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ড্রাম খুলে টুকরো করা মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সিআইডি আঙুলের ছাপ মিলিয়ে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. দীপিকা রায় ময়নাতদন্ত করেন। সুরতহালে উল্লেখ করা হয়, মরদেহ গলা থেকে নিচ পর্যন্ত ২৫ অংশে এবং মাথাসহ মোট ২৬ টুকরো অবস্থায় ছিল। শুক্রবার নিহতের বোন আনজিনা বেগম শাহবাগ থানায় মামলা করেন। মামলায় জরেজুলকে প্রধান আসামি করা হয়। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, ১১ নভেম্বর রাতে আশরাফুল ও জরেজুল রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর থেকেই আশরাফুলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ১৩ নভেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখে থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন তিনি। নিহতের স্ত্রী লাকী বেগম জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য জরেজুল তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা ধার চাইেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি কঠোর বিচার দাবি করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ও আলু আমদানির লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী ছিলেন। তার ব্যবসার হিসাব-নিকাশও দেখাশোনা করতেন জরেজুল। গত মঙ্গলবার ব্যবসার কাজে দুজনে ঢাকায় এলেও বুধবার বিকেলের পর থেকেই আশরাফুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা এবং আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।ভ Capital - Also News
|
Latest News
Most Read News
|
Editor: Mohammad Nizam Uddin JituPlanners Tower, 9th Floor, 13/A Bir Uttam C.R. Dutta Road, Banglamotor, Shahbag, Dhaka-1000 |