
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা সতর্কতা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতে লাল কেল্লার সংলগ্ন এলাকায় হুন্ডাই আই-টুয়েন্টি মডেলের একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় ত্যাগী জানিয়েছেন, গাড়িটিতে তিনজন যাত্রী ছিলেন। বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে এবং এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দে তার দোকানের কাচ ভেঙে যায় এবং ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।
দিল্লির লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকার আশপাশে দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। দমকল বাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দিল্লির উপপ্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা একে মালিক জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটের দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘটনার বিস্তারিত জানান। অমিত শাহ জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এনএসজি, সন্ত্রাস দমন সংস্থা এনআইএ এবং দিল্লি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিস্ফোরণের পর ভারতের বড় শহরগুলো—কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও জনবহুল এলাকায় তল্লাশি অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রাত থেকেই বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়।
এদিকে, দিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। মার্কিন নাগরিকদের লাল কেল্লা ও চাঁদনি চক এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার দূতাবাসও নিজ নিজ নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পর তারা উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানায় একাধিক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার কিলোগ্রাম বিস্ফোরক, বিস্ফোরণের রাসায়নিক, চারটি পিস্তল ও কয়েকটি রাইফেল। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-এ-মুহাম্মদ ও আনসার গাজওয়াতুল হিন্দের সঙ্গে যুক্ত। তবে দিল্লির বিস্ফোরণের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনও পাওয়া যায়নি।
বিস্ফোরণের ঘটনায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। দিল্লির পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাল কেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের এই সময়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম থাকে এলাকা, যা এখন কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। সরকার জনগণকে গুজবে কান না দিতে এবং প্রয়োজন ছাড়া ভিড়ভাট্টায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।