
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গৃহীত হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
আরএসএফ এক বিবৃতিতে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড’ মধ্যস্থতাকারী দলের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত। প্রাথমিকভাবে তিন মাসের এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সুদানের সরকারি সেনাবাহিনী (এসএএফ) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও আফ্রিকাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলুস জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আপত্তি আসেনি।
খার্তুমভিত্তিক আলজাজিরা প্রতিনিধি হিবা মরগানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল অস্ত্রবিরতিই নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে। এতে একটি বেসামরিক সরকার গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
আরএসএফের দাবি, তারা দুই বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসান চায়। তবে সরকারি বাহিনী বারবার জানিয়েছে, আরএসএফকে সমাজে পুনঃঅন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়। সেনাবাহিনী বলছে, যুদ্ধবিরতির আগে আরএসএফকে তাদের দখলে থাকা শহরগুলো থেকে সরে যেতে হবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতা তারা গ্রহণ করবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন ভাষণে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান বলেন, “আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, নিহত ও নির্যাতিতদের প্রতিশোধ নেওয়া হবে।” তার এই বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, ময়দানে যুদ্ধ এখনো থামছে না।
অন্যদিকে উত্তর দারফুরের এল-ফাশের শহর দখলের পর র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ওই অঞ্চল থেকে অন্তত ৭০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, শহর দখলের সময় এক শিশু হাসপাতালে ৪৬০ জনেরও বেশি রোগী ও চিকিৎসক নিহত হন। বর্তমানে আরএসএফ দারফুর ও দক্ষিণ সুদানের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সরকারি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা দীর্ঘদিনের সংঘাতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। তবে আস্থার সংকট এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।