তাজা খবর:

বাংলাদেশে কম দামে পেঁয়াজ ছেড়েছে ভারত কাবুলের হোটেলে ১২ ঘণ্টার জিম্মি দশার অবসান পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৮০ ভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ন্যাম ভবনে এমপি-পুত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রেডিওতে বাংরেজি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তারানা হালিম শহীদ আসাদ দিবস আজ বাংলাদেশের দরকার ৯২৮ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী Wednesday, 31 December, 1969, at 6:00 PM

ENGLISH

লাইফস্টাইল

ডিম নিয়ে ডিগবাজি

প্রকাশ : 07 জানুয়ারি 2018, রবিবার, সময় : 20:08, পঠিত 51 বার
মোঃ হাবিবুর রহমান : সুস্থ্য-সবল ভাবে বাচার জন্য ডিম একটি পরিপূর্ণ খাদ্য।ডিমে আছে প্রায় সবধরনের ভিটামিন, দরকারি অ্যামিনো এসিড ও ক্ষনিজ।ডিমের কোলেষ্টরল ক্ষতিকর নয় বরং উপকারি। ডিম উচ্চ রক্ত চাপ এবং ষ্টোকের ঝুকি কমায়, দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়, চোখের  স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ডায়াবেটিস (টাইপ-২), স্তন ক্যান্সার  এবং মাইগ্রেনের ঝুকি কমায় । বিশ্ব ডিম দিবসে প্রতিটি ডিম বিক্রি হবে ৩ টাকা দরে এবং জনপ্রতি কেনা যাবে ৯০টি ডিম। কথাগুলি প্রচার করেছিল বাংলাদেশে এবারের বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপনকারি সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং সরকারের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
একথা অনস্বীকার্য যে, ডিম একটি উপাদেয় এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য।সব বয়সেই ডিম খাওয়া যায়। মানব দেহের গঠন, বৃদ্ধি এবং রসনার তৃপ্তির জন্য ডিমের সুনাম এবং প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।ডিমের নাম শোনেনি অথবা ডিম চিনেনা বিশ্ব দরবারে এমন একটি লোক খুজে পাওয়া দুষ্কর।আজকাল অনেক বাচ্চা ডিম ছাড়া কিছুই খেতে চায়না তবে এটা সন্তানের বৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সুলক্ষন নয়।
শুধু বাচ্চারা কেন বড়রা ও ডিম খাওয়াতে কম যাননা।আবালবৃদ্ধবণিতা ডিম খেতে  চাইবে না কেন? ডিম দিয়ে তৈরি হয় আমলেট, ওমলেট, মামলেট আরো কতো কি।ডিমের কারি, ডিম ফ্রাই, ডিমের পুডিং বা কোরমার নাম শুনলে জিবে জল চলে আসে।ইদানিং অবশ্য প্লাষ্টিক ডিমের আতঙ্কে আছেন ডিম ভক্ষনকারী সম্প্রদায়। তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশে এখনো প্লাষ্টিক ডিমের অস্তিত্ব পওয়া যায়নি, ভাষ্য কর্তাব্যক্তিদের।ডিম নিয়ে অনেক উপকথা, লোককথা প্রচলিত আছে।ঘোড়ার ডিমের কথা শুনেনি এমন লোক খুজে পাওয়া না গেলেও ঘোড়ার ডিম দেখেছে এমন লোক হয়তো বাংলাদেশে খুজে পাওয়া সম্ভব। অনেকে আবার ডিমকে বলে থাকেন ডিম্ব এবং এই ডিম্ব ও অশ্ব ডিম্বের মধ্যে একটা যোগ-সাজস তৈরি করে জীবিকা নির্বাহের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।আদিম কালে মা, চাচী, নানী, দাদীরা কোন ক্রমেই পরীক্ষার দিন বাচ্চাদের ডিম খেতে দিতেন না।পরীক্ষার দিনে ডিম খেয়ে খাতায় ডিম অথাৎ শূন্য পেলে নির্ঘাত ফেল। এটা ছিল তাদের বিশ্বাস।
মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করা বড় কঠিন এবং সাংঘাতিক বিষয়। এবার বিশ্ব ডিম দিবসে যেটা করা হয়েছে অত্যন্ত সুকৌশলে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে শুধু প্রচার পাওয়ার জন্য ।
মানুষ যখন প্রচার পেতে চায় তখন তারা ভয়ংকর এবং হিংস্র হয়ে উঠতে পারে।বাংলাদেশর আমজনতা সৈয়দ শামসুল হক কে চিনে।আবার তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে শুনে নাই এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম।তো একবার জনাব সৈয়দ শামসুল হক আর তসলিমা নাসরিন কোলকাতা বেড়াতে যেয়ে জনাব হক নাকি হোটেলের একি রুমে থাকতে চেয়েছিলেন।বিষয়টি তসলিমা নাসরিন রসাতœক ভঙ্গিতে, বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করেন।তসলিমা নাসরিন বলেন আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, খেলারাম খেলেযার নায়ক একাকি অবস্থানরত তার নায়িকার দিকে এগিয়ে আসছে, অতঃপর ইত্যাদি ইত্যাদি।বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসলে একদল সাংবাদিক সৈয়দ শামসুল হকের সাথে সাক্ষাতে বিষটি তাঁর নজরে আনলে জনাব হক বলেছিলেন, তসলিমা নাসরিনকে আমি আমার মেয়ের মত দেখতাম কিন্তু যখন দেখলাম সে বিখ্যাত হওয়ার চেষ্টায় ব্যাপিত তখন আমি তার তেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলছি।কারন বিখ্যাত হওয়ার বাসনা মানুষকে ভয়ংকর করে তুলে ।
বিখ্যাত হওয়ার বিষয়ে অনেক লোককাহিনী প্রচলিত আছে। এখানে একটি কাহিনী বলা যেতে পারে।এক ব্যক্তি গল্প দিচ্ছে শুধু একটু প্রচার পাওয়ার জন্য অনেক ভালো কাজ করলাম পরোপকার, দান খয়রাত আরো কতো কি। তবে প্রচার পেলাম না। কিন্তু যেদিন শাশুড়ী বের করে নিয়ে গেলাম, দেখলাম আমার নাম মানুষের মুখে মুখে। মন্দ কি!
বিশ্ব ডিম দিবসের আায়োজক কমিটি হয়তোবা নেহায়েত প্রচার পেতে চেয়েছিলেন।তাদের ভাষায় আমরা কয়েক বছর ধরে বিশ্ব ডিম দিবসে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, র‌্যালি ইত্যাদি কর্মর্সূচী গ্রহন করি। মানুষের সমাগম সেখানে খুবএকটা হয়নি।কারন মানুষ সচেতন নয়।
এবার তিন টাকায় ডিম বিক্রীর ঘোষণায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি, আমরা এবার সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি।আমরা তো সফল।তবে হ্যা আমরা বলতে পারি তোমরা সফল কিন্তু আমাদের কষ্ট দিয়েছ। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাড় করিয়ে রেখেছ্,ো ডিম তো পায়নি বরং  স্বজনদের কাছে হাসির খোরাক হয়েছি।
এবারের বিশ্ব ডিম দিবসের অনুষ্ঠানে মাত্র ৩ টাকা দরে জনপ্রতি ৯০ টি ডিম দেয়ার ঘোষনা দেয়া হয়। বাঙ্গালীর নামের আগে যে  হুজুগে শব্দটি যুক্ত আছে কতৃপক্ষ হয়তবা এটা জানতেন না  অথবা জানলেও গুরুত্ব দিতে চাননি। ফলে যা হবার তাই হলো।সকাল ১০ টায় ডিম বিক্রীর পূর্ব নির্ধারিত
 সময় হলেও সকাল ৮ টায় খামারবাড়ী লোকে লোকারণ্য।জীবিকার প্রয়োজনে এ অধম পোল্ট্রি শিল্পের  সাথে জড়িত এবং বিশ্ব ডিম দিবস সম্পর্কে অবগত ছিলেন।বিশ্ব ডিম দিবসে মাত্র ৩ টাকায় ডিম বিক্রী হবে শুনে কৌতুহল বোধ করি এবং খামারবাড়ী যাই।কিন্তু সকাল ১০টায় খামারবাড়ী যেয়ে তো আক্কেল গুড়ুম। হাজার হাজার মানুষের লাইন। কারো হাতে খাচি, কারো হাতে বালতি, গামলা, ঝুড়ি, পলিথিন জাতীয় পাত্র, যারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে  সেই ভোরে ৬ টায় লাইন ধরেছেন শুধু ৩ টাকার ডিম নেয়ার জন্য। শুধু ৩ টাকার ডিম নয় জন প্রতি ৯০ টি ডিম। হুজুগ কাকে বলে। ডিমের বাজারে এ অবস্থা দেখে হতাশ হয়ে অধিকতর সংবাদ সংগ্রহে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীদের বাধার মুখে পড়ি, তবে নিজের পরিচয় দিয়ে ভিতরে ডুকে ব্যাথিত হয়েছিলাম।যেখানে ছিল সুদৃশ্য মঞ্চ রং বেরং এর ব্যানার আর ডিম বিক্রীর মোহাযজ্ঞে সাজানো কিছু ডিম, ডিমের ২টি মিনি কাভার্ড ভ্যান তবে এর মধ্যে ডিম ছিলনা বলেই অনেক কে মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল।
তবে কতৃপক্ষ তাদের ডিগবাজি সম্পর্কে সজাগ এবং সচেতন ছিলেন। ফলে পুলিশের সরব উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান। মুহুর্তের মধ্যে ডিম বিক্রীর মঞ্চ ভাংচুর হলো, সম্ভবত জনা দুয়েক ব্যক্তি ডিম পেয়েছিলেন। তবে কারা যেন সেই ডিম ছো মেরে তুলে নিয়ে দৌড় দিতে যেয়ে সাধারন জনতার সাথে ধাক্কা খেয়ে ভাঙ্গা ডিম গায়ে মেখে জনতার  উত্তম মধ্যমেই প্রস্থান করেছিলেন ।
জনতার আশা ধুলিস্যাৎ হলো।৩ টাকার ডিম যে কত দামী জনতা সেদিন তা বুঝেছিল। কিছু মানুষের স্বপ্ন দিবা স্বপ্নে পরিনত হয়ে ডিম্ব হলো অশ্বডিম্ব।জনতার মোহভঙ্গ হলেও আয়োজক সংগঠন কিন্তু নিজেদের সফল বলে দাবী করে।কারন ইতোমধ্যে তারা পেয়েছে ব্যাপক প্রচারণা। হোকনা সেটা ভেল্কিবাজির মাধ্যমে।এ প্রচারনার প্রাপ্তি ছিল নীতিহীন, বড় অনৈতিক। প্রজ্ঞা সম্পন্ন কোন মানব সমাজ এটা মেনে নিতে পারেনা।এটা ছিল নিছক একটি সাজানো নাটক।শুধু বিশ্ব ডিম দিবসে আয়োজক  সংগঠন নয় বরং এ ধরণের কোন অনুষ্ঠান অথবা দিবসে সমাজ কখনই এরুপ ভেল্কিবাজী প্রত্যাশা করেনা ।




সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




লাইফস্টাইল পাতার আরও খবর

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৩৪৫/৩, বীর উত্তম সি.আর.দত্ত রোড (ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সোনারগাঁও রোড), হাতিরপুল, কলাবাগান, ঢাকা-১২০৫, বাংলাদেশ।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩
ই-মেইল : pressbanglakhabar@gmail.com, editorbanglakhabar@gmail.com , Web : http://www.banglakhabor24.com